চাহিদা কম বড় গরুর, ছোট আর মাঝারিতে ঝুঁকছে ক্রেতা

আসন্ন কোরবানির ঈদের পশুর হাটে বড় গরুর ক্রেতা কম থাকলেও মাঝারি ও ছোট গরুর ক্রেতার কমতি নেই।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের বাঘবেড় গ্রামের গরু পালনকারী খামারি আব্দুল মালিক বলেন, ‘এবারের হাটে মাঝারি গরুর চাহিদা অনেক বেশি। মাঝারি আকৃতির গরু বেশি বিক্রি হলেও বড় গরুর ক্রেতা কম। ফসল হানির কারণে কৃষকরা তাদের হালের বলদ বিক্রি করে দিচ্ছেন। তাই মাঝারি গরুর আমদানি বেশি।’

বড় গরু পালনকারী খামারি মথুরকান্দি গ্রামের খোরশেদ আলম বলেন, ‘গেলবারের চেয়ে এবার গরুর দাম অনেক কম। বড় গরুর ক্রেতা মিলছে না। সবাই লাখ থেকে দেড় লাখ টাকায় গরু কিনছেন। কিন্তু বড় গরুর দাম ২ লাখ থেকে তিন লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বড় আকৃতির গরুর ক্রেতা কম।’

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘জেলায় দেশীয় ৫৩ হাজারের বেশি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য চারশকোটি টাকারও বেশি।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এবার কোরবানির পশুর সার্বিক চাহিদা রয়েছে ৫০ হাজার ৪৯৪টি। এর বিপরীতে কোরবানিযোগ্য পশুর প্রাপ্যতা ৫৩ হাজার ৪০১টি হওয়ায় চাহিদা মিটিয়েও জেলায় প্রায় ২ হাজার ৯০৭টি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকবে। প্রস্তুতকৃত মোট পশুর মধ্যে ষাঁড় ২১ হাজার ১৭৬টি, বলদ ১১ হাজার ৮৯৭টি, গাভী ৬ হাজার ৮৪১টি, মহিষ ৪১৫টি, ছাগল ৭ হাজার ৯৬৩টি এবং ভেড়া রয়েছে ৪ হাজার ২২২টি। সবচেয়ে বেশি উদ্বৃত্ত পশু রয়েছে ছাতক উপজেলা, যেখানে ৩ হাজার ৪১৭টি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জ সদরে ২ হাজার ২১৯টি, দিরাইয়ে ৩৫৫টি, দোয়ারাবাজারে ২৭২টি, ধর্মপাশায় ১২৩টি, শাল্লায় ৮৫টি এবং জগন্নাথপুরে ৮১টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

অন্যদিকে কিছু উপজেলায় পশুর ঘাটতিও রয়েছে, যার মধ্যে জামালগঞ্জে ২ হাজার ৬৫৫টি, তাহিরপুরে ১ হাজার ১২৪টি এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৯৮টি পশুর ঘাটতি দেখা গেছে।

সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, পশুর হাটে এবার প্রচুর পশু ওঠেছে সে তুলনায় ক্রেতা কম। দেশের চট্টগ্রাম ঢাকা সিলেট থেকে পাইকারা এসেছেন। তারা মোটামোটি সাশ্রয়ী মূল্যে মাঝারি আকৃতির গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে এবার বড় গরুর চাহিদা ও দাম কমে গেছে। সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আসার পরিমাণ কমে যাওয়ায় খামারি ও পশুমোটাতাজাকারি কৃষকরা মাঝারি আকৃতির গরু লাভজনক দামে বিক্রি করছেন।

পশুর আকার আকৃতি ও ওজন অনুযায়ী ছোট বড় মাঝারি আকারের গরু সর্বনিম্ন দাম ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং বড় গরুর সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছাগল সর্বনিম্ন ৫ থেকে ৬ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং ভেড়া সর্বনিম্ন ৪ থেকে ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বর্তমানে জেলাজুড়ে নিবন্ধিত খামারির সংখ্যা ৭৩৭টি এবং কোরবানি উপলক্ষে এবার মোট ৬০টি হাট বসছে, যার মধ্যে স্থায়ী হাট ২৬টি এবং অস্থায়ী ৩৪টি। হাটে পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিকভাবে ১৯টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম নিয়োজিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ছাতক উপজেলায় ৩টি, সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার, দিরাই, বিশ্বম্ভরপুর, শান্তিগঞ্জ ও শাল্লায় ২টি করে এবং জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলায় ১টি করে মেডিকেল টিম কাজ করছে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর জেলায় প্রায় ৫৩ হাজারের বেশি সুস্থ-সবল পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জেলার ৬০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটে ৪০০ কোটি টাকার বেশি গবাদিপশু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

Read Previous

ঈদযাত্রায় সড়কের চাপ কমাতে পোশাক কারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি: বিজিএমইএ

Read Next

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির দ্বারপ্রান্তে, খুলছে হরমুজ প্রণালি!

Most Popular