ঈদযাত্রায় বায়ুর সংক্রমণে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সংক্রমণ ঠেকাতে চিকিৎসকরা ভিড় ও জনবহুল জায়গায় শিশুদের না নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে, পরিপূর্ণ সুস্থ না হওয়ায় অনেক শিশু ও তাদের বাবা মায়ের ঈদ কাটবে হাসপাতালের বিছানায়।
আড়াই মাসের ছোট্ট মনিকা। জন্মের সময়ই মাকে হারিয়েছে সে। তিনদিন আগে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় মনিকা। এখন তার দেখাশোনার দায়িত্ব বাবা ও চাচার।
মনিকার বাবা বলেন, মেডিকেলে আনার আগে ওর ঠাণ্ডা কাশি লাগে। এরপর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল নেয়া হয়। সেখানে বুকের এক্সে করেছে। সব ঠিক ছিল। রাতে দেখি মেয়ের চোখ মুখ লাল হয়ে যাচ্ছে। তারপর চিকিৎসকরা মহাখালীর ডিএনসি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে।
এদিকে ছোটবোন সারার চিকিৎসা চলছে। বেডের পাশেই ঈদ উৎযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বড়বোন মরিয়ম। শুধু সারা, মনিকা নয় তাদের মতো হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হাজারো শিশু ও তাদের পরিবারের ঈদ কাটবে হাসপাতালে।
হামে আক্রান্ত শিশুদের মায়েদের দেয়া বক্তব্য থেকে জানা যায়, হাসপাতালে আসার আগে ঠাণ্ডা-কাশি ছিল। হাসপাতালে আনার পর অনেকে ভালো আছে। কেউ কেউ আরও অসুস্থ হয়েছে। তাদের জ্বর, পাতলা পায়খানা হচ্ছে।
সংক্রমণ ঠেকাতে চিকিৎসকরা ঈদে ভিড় এবং জনবহুল জায়গায় শিশুদের না নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এক চিকিৎসক বলেন, যেসব রোগীর অবস্থা জটিল না। অনুরোধে তাদের আমরা ছেড়ে দিচ্ছি।
এরইমধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সাড়ে ৫ শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে।
