বিদেশ যাওয়ার জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন নিতে গিয়ে শরীয়তপুরের নড়িয়া থানায় এক সাব-ইন্সপেক্টরের ঘুষ দাবির উদাহরণ তুলে ধরে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি জানান, ওই ব্যক্তির কাছে প্রথমে ২ হাজার ২০০ টাকা, পরে ২ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ৭০০ টাকায় রফাদফা হয়। এ ধরনের অনিয়ম কমাতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ১০ দিনব্যাপী ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি’ শীর্ষক আবাসিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণ এবং পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষণ করা হলে একজন ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। তথ্য গোপন করে এক জায়গায় বিয়ের পর অন্যত্র আবার বিয়ে করার সুযোগও কমবে।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি আগে বিয়ে করেছেন কি না, তা অনলাইনে যাচাই করা গেলে বহুবিবাহ প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যাবে। একইভাবে বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ রোধেও ডিজিটাল নিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত হলে বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রেও এর সুফল পাওয়া যাবে বলে জানান আইনমন্ত্রী। কোনো ব্যক্তি বিদেশে গিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ অনলাইনে বিবাহের তথ্য যাচাই করতে পারবে। এতে বৈবাহিক সম্পর্কের সত্যতা দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের ঘুষ দাবির প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, একজন নাগরিকের প্রয়োজনীয় সেবা পেতে যদি এভাবে অর্থ লেনদেনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা আরও জরুরি হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ডিজিটালাইজেশনের বিভিন্ন ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হলে এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে। জন্মনিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্যের মধ্যে যেমন পারস্পরিক সংযোগ রয়েছে, তেমনি বিবাহ নিবন্ধনের তথ্যও পর্যায়ক্রমে এসব ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, জন্মের পর একজন শিশুর জন্মনিবন্ধন, প্রাপ্তবয়স্ক হলে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পরবর্তী সময়ে পাসপোর্ট-জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য যুক্ত হলে একজন নাগরিকের পরিচয় ও বৈবাহিক অবস্থার নির্ভরযোগ্য তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
