‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের আইকন হতে পারেন আহমদ রফিক’

শনিবার ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে খামখেয়ালী সভার স্মরণাঞ্জলি ‘মহিমা তব উদ্ভাসিত’। রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৪০১ নম্বর কক্ষে সন্ধ্যা ৬টায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খামখেয়ালী সভার অন্যতম ট্রাস্টি চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান।

স্মরণাঞ্জলিতে আহমদ রফিকের জীবন ও রচনা নিয়ে আলোচনা করেন লেখক ও গবেষক মফিদুল হক, অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী, আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনের সাধারন সম্পাদক ড. ইসমাইল সাদী এবং খামখেয়ালী সভা ট্রাস্টের সভাপতি মাহমুদ হাশিম। আহমদ রফিক রচিত ‘মাকে আমি কোনদিন’ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষ চিঠি’র অংশবিশেষ আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়।

অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, ‘আহমদ রফিক ব্যক্তিগত সম্পদে আস্থা রাখেননি। সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানায় বিশ্বাস করতেন না। আজ তাঁর স্মরণে আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন হয়েছে। তিনি মৃত্যুর কয়েক বছর আগে এর স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু মানুষটার শেষ ইচ্ছা ছিল ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁর স্মরণে একটি তরুণদের দ্বারা ফাউন্ডেশন বা সংগঠন হোক এবং আলাউদ্দিন খাঁর সাধনার চর্চা হোক। আহমদ রফিক এতটাই স্বার্থহীন মানুষ চিলেন।

ইসমাইল সাদী বলেন, ‘আহমদ রফিক কখনো নিজের কাজ বা অবদানকে নিজে প্রচার করেননি। তিনি বলেন, সে কারণে তাঁর জীবনের অনেক ঘটনাই চাপা পড়ে গেছে।’ সেজন্য তাঁর কর্মময় জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী গ্রন্থের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

লেখক-গবেষক মফিদুল হক বলেন, আহমদ রফিক সবসময় নিজেই নিজেকে অতিক্রম করে গেছেন। বাঙালির চিরায়ত রূপ অসাম্প্রদায়িকতা আহমদ রফিকের ভেতরে মূর্ত হয়েছিল। আহমদ রফিক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের আইকন হতে পারেন।

প্রথম প্রয়াণবার্ষিকীর স্মরণাঞ্জলিতে খামখেয়ালী সভা চারটি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। আহমদ রফিক সংগ্রহ- খামখেয়ালী সভার রবীন্দ্র গ্রন্থাগারে তাঁর রচনা সংগ্রহ ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ, আহমদ রফিক স্মারক বক্তৃতা, ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক অধ্যয়নসভা- ছয় মাস মেয়াদী কোর্সটি এই নভেম্বরেই শুরু হচ্ছে। বর্তমানে কোর্সটির জন্য সদস্য আহ্ববান চলছে। অপর কর্মসূচিটি হলো, রবীন্দ্র গবেষকদের জন্য আহমদ রফিক গবেষণা বৃত্তি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে খামখেয়ালী সভা। খামখেয়ালী সভা ট্রাস্টের সভাপতি মাহমুদ হাশিম তাঁর বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন।

স্মরণাঞ্জলির সভাপতি চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান বলেন, আহমদ রফিকের স্মৃতি রক্ষা ও চর্চায় প্রস্তাবিত পরামর্শগুলো নিয়ে কাজ করবে খামখেয়ালী সভা। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে ঘোষিত কর্মসূচীগুলো বাস্তবায়নে খামখেয়ালী সভা বদ্ধপরিকর। সভাপতির বক্তব্যে তিনি আহমদ রফিক চর্চার ক্ষেত্রে আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনসহ উপস্থিত লেখক, সাহিত্যিক, প্রকাশক ও আহমদ রফিক অনুরাগীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক রবীন্দ্রচর্চায় পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন আহমদ রফিক। কিন্তু নানা কারণে রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্রের কার্যক্রম একটা সময়ের পর আর চালু রাখা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে তাঁর গভীর দুঃখ ছিল। তারুণ্য-নির্ভর খামখেয়ালী সভার কার্যক্রমে খুব খুশি ছিলেন আহমদ রফিক। ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর খামখেয়ালী সভা তাঁকে প্রথম রবীন্দ্রগুণী সম্মাননা দেয়। আমৃত্যু তিনি খামখেয়ালী সভার প্রধান উপদেষ্টা পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

ভাষা আন্দোলনে যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তাদের মধ্যে ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক অন্যতম। ছাত্রজীবনে চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন সত্ত্বেও আহমদ রফিক আমৃত্যু দেশ বিভাগ, ভাষা আন্দোলন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণারত ছিলেন। তিনশর অধিক গ্রন্থে তিনি দেশ বিভাগ, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মননজগত তুলে ধরেছেন।

Read Previous

হামের উপসর্গে ৩ মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩০০

Read Next

তেজগাঁওয়ে বসছে বিসিক শরৎ মেলা, ৫ দিনজুড়ে দেশীয় পণ্যের সমাহার

Most Popular