বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়াকে আহ্বান বাংলাদেশের

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য আলোচনাবিষয়ক উপমন্ত্রী হিয়েজিন কোয়ান এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) ভাইস প্রেসিডেন্ট দোহ ইয়ং-আহর নেতৃত্বাধীন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এসব তথ্য জানান।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য আলোচনাবিষয়ক উপমন্ত্রী হিয়েজিন কোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহের কথা জানান। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও শিল্পোন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

গত আগস্টে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় এ চুক্তি কোরিয়া ও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত বাংলাদেশ সফরের সময় সিইপিএ আনুষ্ঠানিকভাবে সই হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবা আমদানি বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ধীরে ধীরে কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাংলাদেশি কৃষি, মৎস্য ও খাদ্যপণ্যের জন্য খাদ্যনিরাপত্তা পরিদর্শন ও কোয়ারেন্টাইন প্রক্রিয়া সহজ করারও অনুরোধ করেন।

এছাড়া আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) জোটে বাংলাদেশের যোগদানে দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থন চান প্রতিমন্ত্রী। কোরিয়ার বড় শিল্পগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র-মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে যৌথ বিনিয়োগ প্রচার এবং সরকারি পর্যায়ের (জিটুজি) সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে উপমন্ত্রী হিয়েজিন কোয়ান বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। সিইপিএ কাঠামোর আওতায় দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে কোরিয়ার আগ্রহের কথা জানান তিনি।

এছাড়া, কোইকার ভাইস প্রেসিডেন্ট দোহ ইয়ং-আহর সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কোইকার দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করেন। অনুদান সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, কারিগরি সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে সংস্থাটির ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বৈঠকে কোইকার ৩ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের ‘সায়েমাউল প্লাস অ্যান্ড পোভার্টি’ কর্মসূচির জন্য ধন্যবাদ জানান হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে পানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীলতা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমুখী কারিগরি শিক্ষা এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য খাতে আরও সহযোগিতা চান।

ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল জনসেবা খাতসহ বৃহৎ পরিসরের সমন্বিত ও রূপান্তরমূলক কর্মসূচির দিকে কোইকা-বাংলাদেশ সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।

এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পাশাপাশি ঢাকার এমআরটি প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে কোরিয়ার দ্রুত সম্মতি দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

কোইকার ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানান। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও কোরিয়ার উন্নয়ন সহযোগিতার অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন ক্ষেত্র ও কর্মসূচি নিয়ে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানান তিনি।

দুই বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থ ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

Read Previous

রাষ্ট্রপতি • রাজনীতিতে সংঘাতের সংস্কৃতি বন্ধ করে সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে

Read Next

প্লেন বিধ্বস্তের চেষ্টায় ইরান জড়িত কি না এখনই বলা যাচ্ছে না: নেতানিয়াহ

Most Popular