ব্রাজিলিয়ান তারকার নৈপুণ্যে পিছিয়ে পড়েও জিতলো আর্সেনাল

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে হোঁচট খেতে গিয়ে জয় নিযে ফিরলো আর্সেনাল। পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র আট মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে লিডস ইউনাইটেডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে মিকেল আর্তেতার দল। এমিরেটস স্টেডিয়ামে এই জয়ে লিগের শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সমান পয়েন্টে পৌঁছে গেছে গানাররা।

ম্যাচের ৫৫ মিনিটে জেমস জাস্টিনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল লিডস। এরপর ৬২ মিনিটে রিকার্দো ক্যালাফিওরি আর্সেনালকে সমতায় ফেরান। বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ছয় মিনিট পর, ৬৮ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ব্রুনো গিমারায়েস।

আন্তর্জাতিক বিরতির আগে ব্রাইটনের কাছে ৩-০ গোলে হেরে ধাক্কা খেয়েছিল আর্সেনাল। লিডসের বিপক্ষেও একপর্যায়ে পরাজয়ের শঙ্কায় পড়েছিল দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট আদায় করে নেয় গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ আর্সেনাল

ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আর্সেনালের পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার চেয়ে নিচে। অন্যদিকে, সুসংগঠিত রক্ষণ এবং কার্যকর আক্রমণে স্বাগতিকদের চাপে রাখে লিডস। ম্যাচের আগে লিগে অপরাজিত থাকা দলটি আর্সেনালকে সহজে কোনো সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি।

প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য সুযোগ বলতে কাই হাভার্টজের একটি হেড। ননি মাদুয়েকের ক্রস থেকে পাওয়া সেই সুযোগে লক্ষ্যে বল রাখতে পারলেও লিডস গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ডকে পরাস্ত করতে পারেননি তিনি।

বিরতির ঠিক আগে গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল লিডসও। গ্যাব্রিয়েল গুডমুন্ডসনের প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া।

স্বাগতিকদের হতশ্রী পারফরম্যান্সে হতাশা বাড়ছিল সমর্থকদের। বিরতিতে খেলোয়াড়েরা টানেলের দিকে যাওয়ার সময় গ্যালারি থেকে এক সমর্থককে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘জেগে ওঠো।’

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও খুব একটা বদলায়নি আর্সেনালের খেলা। ৫১ মিনিটে মাদুয়েকের কাটব্যাক থেকে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড গোলের সুযোগ পেলেও তার প্রথমবারের শট ছিল দুর্বল। সহজেই বল নিয়ন্ত্রণে নেন ট্রাফোর্ড।

অন্য প্রান্তে আও তানাকার দূরপাল্লার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন রায়া। বলের দখল হারানো এবং ভুল পাসের কারণে আর্সেনালের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।

জাস্টিনের গোলে এগিয়ে গেলো লিডস

ম্যাচের ৫৫ মিনিটে আর্সেনালকে স্তব্ধ করে দেয় লিডস। বাঁ-প্রান্ত থেকে গুডমুন্ডসনের নিচু ক্রস বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হন রায়া। তবে পেছন থেকে ছুটে আসা এবং অরক্ষিত অবস্থানে থাকা জেমস জাস্টিন বল জালে পাঠিয়ে দেন।

গোল হজমের পর দ্রুত পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করেন আর্তেতা। ভিক্টর গিয়োকেরেস, ব্রুনো গিমারায়েস ও ইয়ুরিয়েন টিম্বারকে বদলি হিসেবে নামানোর প্রস্তুতি চলছিল। আক্রমণে সৃজনশীলতা বাড়ানো তখন আর্সেনালের জন্য জরুরি হয়ে উঠেছিল।

আট মিনিটে দুই গোল, আর্সেনালের জয়

ম্যাচের ৬২ মিনিটে সমতাসূচক গোল পায় আর্সেনাল। ডান প্রান্ত থেকে মাদুয়েকের বাঁকানো ক্রস বক্সে হেড করেন বেন হোয়াইট। তার হেড থেকে পাওয়া বল কাছ থেকে জালে ঠেলে দেন ক্যালাফিওরি। ট্র্যাফোর্ডের কিছুই করার ছিল না।

সমতায় ফেরার পর যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় আর্সেনাল। গোলের খোঁজে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। এর ফলও আসে দ্রুত।

৬৮ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের পাস থেকে বল পান ইংলিশ মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস। তার দারুণ ফ্লিক থেকে পাওয়া বল জোরালো শটে জালে পাঠান বদলি হিসেবে নামা গিমারায়েস। তাতেই ২-১ গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল।

নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে ৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে আর্সেনালে যোগ দেওয়ার পর এটি ছিল গিমারায়েসের নতুন ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় গোল। দুই গোল হজমের পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি লিডস। বাকি সময়ে লিড ধরে রেখে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে আর্সেনাল।

শিরোপার লড়াইয়ে চাপে ম্যানচেস্টার সিটি

এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সমান পয়েন্টে পৌঁছেছে আর্সেনাল। গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারের জন্য এখন সিটির ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে গানারদের।

অন্যদিকে, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে চলমান মামলার প্রেক্ষাপটে দলটির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরবে সিটি।

ব্রাইটনের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর লিডসের বিপক্ষে আরেকটি অঘটনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল আর্সেনালের। কিন্তু ক্যালাফিওরি ও গিমারায়েসের দুই গোল সেই শঙ্কা দূর করেছে। শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করল আর্তেতার দল।

Read Previous

ভারতে আন্দোলনরত তরুণদের যে বার্তা দিলেন নাহিদ ইসলাম

Read Next

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Most Popular