উচ্চশিক্ষাকে কর্মজীবনমুখী করার তাগিদ ইউজিসি চেয়ারম্যানের

বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞানকে শিক্ষার্থীদের কর্মজীবন ও বাস্তব জীবনের সঙ্গে আরও প্রাসঙ্গিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। উচ্চশিক্ষার মান বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার সঙ্গে জীবনের সংযোগ আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) কক্সবাজারের ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে চার দিনব্যাপী ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনারস’ কার্যক্রমের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘পড়াশোনা শেষে চাকরি, উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ কিংবা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থী তাঁদের অর্জিত শিক্ষার যথাযথ প্রয়োগ করতে পারছেন না। এ অবস্থার পরিবর্তনে উচ্চশিক্ষার মান বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার সঙ্গে জীবনের সংযোগ আরও সুদৃঢ় করতে হবে।’

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, উচ্চশিক্ষা খাতের রূপান্তরে ইউজিসি একটি কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করেছে। শিগগিরই তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শিক্ষকদেরই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। তাই তাঁদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে দেশের পাঁচ হাজার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য মাস্টার ট্রেইনার ও ন্যাশনাল ট্রেইনার তৈরি করা হচ্ছে। তাঁদের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। এই প্রশিক্ষকদের মাধ্যমেই জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

দেশে প্রশিক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ দেশেই আয়োজন করা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষক তৈরি এবং বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দেশের শিক্ষকদের দেশেই কার্যকর প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে চায় ইউজিসি।’

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ডিন থেকে উপাচার্য পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের জন্য অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞদের দেশে এনে তাঁদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা খাতের প্রশিক্ষণ চাহিদা দেশেই পূরণের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।

এ কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলকে ধন্যবাদ জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী অধ্যাপকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষাকে আরও কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক করার উদ্যোগে নবপ্রশিক্ষিত ন্যাশনাল ট্রেইনারদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ইউজিসির হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় জুনিয়র ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। গত ১৬ অক্টোবর শুরু হওয়া প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ জন অধ্যাপক অংশ নেন। ন্যাশনাল ট্রেইনার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে তাঁরা ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস, অ্যাডভান্স এইচইর সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট বেন ব্রাবন এবং হিট প্রকল্পের ফ্যাকাল্টি প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ন্যাশনাল ট্রেইনার, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী অধ্যাপকবৃন্দ এবং ইউজিসি, হিট প্রকল্প ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

Read Previous

সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি: প্রধানমন্ত্রী

Read Next

হেরেও শাস্তি পেল বাংলাদেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular