দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর ইমিগ্রেশন সেবায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে স্থায়ী ‘ইমিগ্রেশন ক্যাডার’ গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, স্থায়ী জনবল নিয়োগ দেয়া হলে বিমানবন্দরে সিন্ডিকেট ও অনিয়ম আরও বাড়তে পারে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন যাতায়াত করেন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার যাত্রী। তাদের নিরাপত্তা ও পাসপোর্ট যাচাইয়ের দায়িত্বে রয়েছেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের বিভিন্ন পর্যায়ের ৬ শতাধিক সদস্য।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ধাপে প্রশিক্ষণ দিয়ে ইমিগ্রেশন সেবায় নিয়োজিত করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক মো. শাহআলম বলেন, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট ম্যানুয়াল রয়েছে। প্রশিক্ষকদের জন্যও আলাদা নির্দেশনা দেয়া হয়। অডিও ক্যাসেটের মাধ্যমেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ যেভাবে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠপর্যায়ে পাঠায়, খুব কম সরকারি বিভাগ বা সংস্থা এভাবে তাদের জনবল তৈরি করে।
তবে বিমানবন্দরের আধুনিক সেবার মান বাড়াতে এবার নতুন প্রস্তাব নিয়ে এগোচ্ছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। প্রেষণে বদলির পরিবর্তে আলাদা স্থায়ী ‘ইমিগ্রেশন ক্যাডার’ নিয়োগের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন বিমান প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। আরও একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বগুড়ায় করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই ইমিগ্রেশন ক্যাডারে কিছু পুলিশ সদস্য নিয়োগ দিয়ে তাদের প্রশিক্ষিত অবস্থায় শুধু ইমিগ্রেশন সেবায় রাখা গেলে তারা দ্রুত কাজ করতে পারবেন। দীর্ঘদিন একই কাজে থাকায় তারা অভিজ্ঞ ও দক্ষ হয়ে উঠবেন।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, স্থায়ী কাঠামো থাকলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক আইন ও যাত্রীসেবায় আরও দক্ষ হয়ে উঠবেন। তবে এই যুক্তির সঙ্গে একমত নন পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক মো. শাহআলম। তার মতে, ইমিগ্রেশনে স্থায়ী জনবল রাখা হলে অনিয়মের শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, ইমিগ্রেশনে বছরের পর বছর একই ব্যক্তি একই চেয়ারে বসে থাকলেই ভালো সেবা নিশ্চিত হবে; সরকারি বিভাগগুলোর ক্ষেত্রে এমন ধারণা কার্যকর নয়। স্পেশাল ব্রাঞ্চে সংযুক্ত হয়ে ইমিগ্রেশনে কাজ করার সময় কর্মকর্তারা নিয়মিত বদলি ও রোটেশনের মধ্যে থাকেন। এতে বিভাগটি তুলনামূলকভাবে আরও সক্রিয় ও সতর্ক থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইমিগ্রেশনে বর্তমান রোটেশন বা বদলি পদ্ধতিই দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর। স্থায়ী ক্যাডার গঠনের আগে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।
