নিত্যদিনের ব্যস্ত জীবনে আলাদা করে ব্যায়ামের সময় বের করা অনেকের জন্যই কঠিন। তবে হাতের নাগালেই রয়েছে এক সহজ ব্যায়াম-সিঁড়ি ওঠানামা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে শরীরের নানা সুফল পাওয়া যায়, যা বহু ব্যয়সাপেক্ষ ব্যায়ামের সমতুল্য প্রভাব রাখতে পারে।
হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী
সিঁড়ি ওঠা একটি কার্যকর কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম। এটি হৃদ্যন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, রক্ত সঞ্চালনকে সক্রিয় রাখে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। নিয়মিত অভ্যাস হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে।
ওজন কমাতে সহায়ক
সিঁড়ি ওঠানামা করলে শরীরে তুলনামূলক বেশি ক্যালরি খরচ হয়। ১০ মিনিট সিঁড়ি ওঠা-হালকা দৌড়ানোর প্রায় সমান ক্যালরি বার্ন করতে পারে। ফলে অতিরিক্ত চর্বি কমাতে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
পেশি ও হাড় মজবুত করে
এ ব্যায়ামে পায়ের পেশি, উরু, নিতম্ব, কাফ মাসলসহ নিচের অংশের প্রায় সব পেশিই সক্রিয়ভাবে কাজ করে। একই সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে, ফলে অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকিও কমে।
শ্বাসপ্রশ্বাস ও সহনশীলতা বাড়ায়
সিঁড়ি ওঠার সময় শরীর বেশি অক্সিজেন চায়, ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়। এতে শ্বাস-প্রশ্বাস ভালো হয় এবং শরীরের সামগ্রিক স্ট্যামিনা বৃদ্ধি পায়।
মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম মস্তিষ্কে ‘ফিল গুড’ হরমোন এন্ডোরফিন নিঃসরণ করে। সিঁড়ি ওঠানামা মানসিক চাপ ও ক্লান্তি কমিয়ে মন ভালো রাখতেও সহায়তা করে।
সহজ, খরচ ছাড়াই, যেকোনো সময়ে করা যায়
জিমে না গিয়ে বা বিশেষ কোনো সরঞ্জাম ছাড়াই এই ব্যায়াম শুরু করা যায়। বাড়ি, অফিস কিংবা যে কোনো ভবনে-ইচ্ছা করলে প্রতিদিনই কয়েক মিনিট সিঁড়ি ওঠানামা করা সম্ভব।
সতর্কতা
১.যারা হাঁটু বা জোড়ের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের অতিরিক্ত সিঁড়ি ওঠানামা শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
২.দ্রুত নয়, ধীরে ধীরে অভ্যাস বাড়ানো প্রয়োজন।
