দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্ণ করেছে বর্তমান সরকার। এই স্বল্প সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কার ও জনকল্যাণে গৃহীত ৬০টি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নবনিযুক্ত মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এগুলো হলো:
১. ফ্যামিলি কার্ড: নারীর ক্ষমতায়নে ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান (মাসিক ২,৫০০ টাকা সহায়তা)।
২. কৃষক কার্ড: ১০ জেলায় ২২ হাজার কৃষকের মাঝে ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সংবলিত কার্ড বিতরণ।
৩. ঋণ মওকুফ: ১২ লাখ ক্ষুদ্র কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ।
৪. সংসদীয় নজির: প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি।
৫. জলাশয় খনন: ৫৪ জেলায় ২০,০০০ কিলোমিটার নদী-খাল খনন শুরু।
৬. জ্বালানি তেলের দাম: বৈশ্বিক সংকটেও ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা।
৭. সৌর বিদ্যুৎ: জাতীয় গ্রিডে ৩৫ মেগাওয়াট যুক্ত হওয়া ও ১০ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্যমাত্রা।
৮. ফুয়েল কার্ড: জ্বালানি সংগ্রহের জন্য পাইলট প্রজেক্ট চালু।
৯. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: রমজান ও পরবর্তী সময়ে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখা।
১০. ধর্মীয় সম্মানী: ৪, ৯০৮টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও পালককে মাসিক সম্মানীর আওতায় আনা।
১১. জাকাত আধুনিকায়ন: দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থার সংস্কার ও ঈদে উপহার বিতরণ।
১২. প্রবাসী কার্ড: প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কার্ড চালুর উদ্যোগ।
১৩. হজ খরচ কমানো: টিকিট প্রতি ১২,০০০ টাকা হ্রাস ও ‘নুসুক হজ কার্ড’ প্রদান।
১৪. শূন্য পদ পূরণ: সরকারি অফিসের ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ পূরণের কর্মপরিকল্পনা।
১৫. শিল্প কারখানা: বন্ধ চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ।
১৬. ইকোসিস্টেম তৈরি: ইকোনমিক জোন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্যবসায়িক সংযোগ।
১৭. ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি: ২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা।
১৮. জিডিপি প্রবৃদ্ধি: ২০৩০ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করার কৌশল।
১৯. বিদেশি বিনিয়োগ: ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি মওকুফ।
২০. শ্রমিক অধিকার: ঈদুল ফিতরের আগে সব কারখানার বেতন-বোনাস নিশ্চিতকরণ।
২১. মালয়েশিয়া শ্রমবাজার: অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে পুনরায় বাজার উন্মুক্ত করা।
২২. বিকল্প শ্রমবাজার: ইউরোপের ৭টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদ্যোগ।
২৩. দক্ষ জনশক্তি: কারিগরি শিক্ষা ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি।
২৪. অ্যাগ্রো হাব: উত্তরবঙ্গকে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
২৫. পেমেন্ট গেটওয়ে: পে-পালসহ আন্তর্জাতিক গেটওয়ে বাংলাদেশে চালুর উদ্যোগ।
২৬. স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: ১ লাখ নতুন কর্মী নিয়োগ (যার ৮০ শতাংশই নারী)।
২৭. ই-হেলথ কার্ড: ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা কার্ড ও হাসপাতালের নিরাপত্তা বৃদ্ধি।
২৮. ভর্তি ফি বাতিল: প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি নেওয়া বন্ধ ও বৃত্তির অর্থ দ্বিগুণ করা।
২৯. শিক্ষা ঋণ: উচ্চশিক্ষার জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি।
৩০. শিক্ষক নিয়োগ: ৯,০০০ ধর্মীয় শিক্ষকসহ শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ।
৩১. ক্রীড়া শিক্ষক: উপজেলা পর্যায়ে ১৮ জন করে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা।
৩২. নতুন কুঁড়ি: প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুনরুত্থান ও সংসদে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আস বরাদ্দ।
৩৩. বিনামূল্যে সামগ্রী: ২ লাখ শিশুর মাঝে স্কুল ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ বিতরণ।
৩৪. মাদ্রাসা আধুনিকায়ন: স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন ও কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তি।
৩৫. স্পোর্টস কার্ড: শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা প্রদান শুরু।
৩৬. বনায়ন: ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি (চলতি বছর ১.৫ কোটি)।
৩৭. প্রধানমন্ত্রীর কৃচ্ছ্রসাধন: যমুনা ব্যবহার না করে নিজ বাড়ি, গাড়ি ও তেল খরচ বহন।
৩৮. প্রটোকল সংকোচন: ৯টায় অফিস ও বিমানবন্দরে ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিতকরণ।
৩৯. অনলাইন ভূমি সেবা: ই-নামজারি বাধ্যতামূলক ও ডিজিটাল সার্ভের পাইলটিং।
৪০. পদ্মা ব্যারেজ: কৃষি অঞ্চল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প।
৪১. ভিআইপি সুবিধা ত্যাগ: এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেয়ার সিদ্ধান্ত।
৪২. পাটজাত পণ্য: সরকারি-বেসরকারি খাতে পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।
৪৩. পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক জাতীয় কর্মসূচি।
৪৪. টিকাদান: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা হামের টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালু।
৪৫. আইনশৃঙ্খলা: চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও জনবান্ধব পুলিশ গঠন।
৪৬. পিংক বাস: নারীদের জন্য বিশেষায়িত নিরাপদ বাস সার্ভিস চালু।
৪৭. নদী রক্ষা আইন: দখল-দূষণে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান।
৪৮. বিদ্যুৎ সাশ্রয়: রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিতকরণ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ১১ দফা নির্দেশনা।
৪৯. মেধাভিত্তিক নিয়োগ: এনটিআরসি-র মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ।
৫০. তেল শোধনাগার: ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা।
৫১. হকার পুনর্বাসন: ফুটপাত ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ।
৫২. বাকস্বাধীনতা: মুক্ত ও নিরাপদ মতপ্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিতকরণ।
৫৩. বিমানবন্দর আধুনিকায়ন: শাহজালাল বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ।
৫৪. ফ্রি ইন্টারনেট: প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে উন্নত ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা।
৫৫. ট্রেনে ইন্টারনেট: চলন্ত ট্রেনে এবং ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই।
৫৬. অর্থনৈতিক কূটনীতি: দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানিতে অগ্রাধিকার।
৫৭. দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক: সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও পানি বণ্টন নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা।
৫৮. পাচারকৃত অর্থ: বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ ফেরাতে ১০ দেশের সঙ্গে আইনি সহায়তা জোরদার।
৫৯. উপকূলীয় সুরক্ষা: নদীভাঙন রোধ ও জলবায়ু মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
৬০. মানবাধিকার: গুম ও খুনের বিচার নিশ্চিত করে মানবাধিকার রক্ষা।
