বাংলাদেশে চক্ষু চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব দূরীকরণে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে আলোচনা করেছে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল এবং বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিসিপিএস কার্যালয়ে এক বৈঠকে এই আলোচনা হয়।
অরবিস ইন্টারন্যাশনালের বোর্ড ভাইস চেয়ার ডায়ানা হুইলার এদিন বিসিপিএস পরিদর্শন করেন এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে বিসিপিএস-এর প্রতিনিধিত্ব করেন কলেজের সচিব অধ্যাপক আবুল বাশার মো. জামাল এবং পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
বৈঠকে বাংলাদেশে চক্ষু চিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে অরবিস ও বিসিপিএস-এর মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেন যে, এই শক্তিশালী অংশীদারিত্ব দেশব্যাপী দৃষ্টিসেবার মান উন্নয়নে এবং অন্ধত্ব নিবারণে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।
পরিদর্শনকালে ডায়ানা হুইলার বিসিপিএস-এর একাডেমিক প্রোগ্রাম এবং অবকাঠামোগত সুবিধা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে চক্ষুসেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের জন্য বিসিপিএস যেসব সুবিধা ও অবকাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে, তা দেখে আমি মুগ্ধ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, টেকসই চক্ষুসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিসিপিএস-এর উদ্যোগগুলোতে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল সর্বদা সমর্থন দিয়ে যাবে।
বর্তমানে দুই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ‘মডিউলার স্মল ইনসিশন ক্যাটারেক্ট সার্জারি’ (এমএসআইসিএস) বাস্তবায়নের মাধ্যমে সার্জিক্যাল প্রশিক্ষণ উন্নত করার কাজ চলছে। এর পাশাপাশি ফান্ডামেন্টাল ভিআর সিমুলেশন এবং সাইবারসাইট কোর্সের মতো প্রযুক্তি-নির্ভর শিক্ষণ পদ্ধতি চক্ষু চিকিৎসকদের উচ্চ-মানের সেবা প্রদানে সক্ষম করে তুলছে।
সভায় অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মুনির আহমেদসহ বিসিপিএস-এর শিক্ষকবৃন্দ এবং অরবিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসা ডায়ানা হুইলার ইতোমধ্যে নীলফামারী ও রংপুরে নারী-নেতৃত্বাধীন ‘গ্রিন ভিশন সেন্টার’ পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া তিনি বর্তমানে ৫৯টি জেলায় চলমান দেশের বৃহত্তম ছানি সেবা প্রকল্পটি পর্যবেক্ষণ করছেন, যার লক্ষ্য দুই বছরের মধ্যে ১ লক্ষ ছানি অস্ত্রোপচার এবং ১০ লক্ষ চক্ষু পরীক্ষা সম্পন্ন করা।
