হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তা কার্যক্রম থেকে হঠাৎ সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কার্যক্রম ঘোষণার মাত্র ৩৬ ঘণ্টা পরই ট্রাম্পের আকস্মিকভাবে ওই অভিযান স্থগিতের পেছনে উপসাগরীয় মিত্রের আপত্তি কাজ করেছে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, গত রোববার (৩ মে) বিকেলে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প হঠাৎ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা করে উপসাগরীয় মিত্রদের বিস্মিত করেন। এতে সৌদি আরবের নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হয়।
সৌদি সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে জানায়, এই কাজের জন্য রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সামরিক বিমান উড্ডয়ন করতে দেয়া হবে না এবং সৌদি আকাশসীমাও ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পরিকল্পনা ঘোষণার পর সৌদি আরবের নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হয়। এরপর সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে জানায় যে তারা এই পরিকল্পনা সমর্থন করবে না।
সূত্রের বরাত দিয়ে এনবিসি নিউজ জানায়, এরপর ট্রাম্প সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে ফোন করলেও তার সম্মতি আদায় করতে পারেননি।
ওয়াশিংটনের এ নৌ অভিযানের ঘোষণা সৌদি নেতাদের ‘বিস্মিত করেছিল’ কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে এক সৌদি সূত্র বলেছে, পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলাচ্ছে যে অবাক হওয়ার সুযোগই থাকছে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছাতে পাকিস্তানের নেতৃত্বে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, তাতে রিয়াদের ‘পুরোপুরি সমর্থন’ আছে বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, হরমুজে তাদের অভিযানের বিষয়ে পশ্চিম এশিয়ার মিত্রদের আগেই জানানো হয়েছিল।
ওমানের এক কূটনীতিক বলেছেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যে অভিযানের ঘোষণা দেয়ার পরই ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। যুক্তরাষ্ট্র আগে ঘোষণাটি দেয়, পরে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমরা হতাশ বা ক্রুদ্ধ নই।
পরে অনুসন্ধানী সংবাদ আউটলেট ড্রপ সাইট জানায়, মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ট্রাম্পের প্রজেক্ট ফ্রিডম ঘোষণার পর কুয়েতও তাদের ঘাঁটি ও আকাশসীমা যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দেয়।
পরে ৫ মে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তা কার্যক্রমটি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির পথে ‘ব্যাপক অগ্রগতি’ হওয়ার দাবি করে এমন পদক্ষেপ বলে জানান ট্রাম্প।
