আমি মারা যাবার পর এই ছবিটা দিয়েন: কারিনা কায়সার

লিভার সংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার। তার এ হঠাৎ অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। স্মৃতিকাতর হয়ে আবেগী বার্তায় প্রিয়জনদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়ে বইছে শোকের ছায়া।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা আর জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট দিয়ে তরুণ দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন কারিনা কায়সার। যেই মানুষটি নিজের তৈরি কনটেন্ট আর অনবদ্য হাসিতে প্রতিনিয়ত সবার মুখে হাসি ফোটাতেন, যার চারপাশটা ঘিরে থাকতো রঙের মেলা-তিনিই আজ কেবলই এক সাদাকালো স্থিরচিত্রে সংবাদ শিরোনামে।

আকস্মিক তার বিদায়ে স্তব্ধ সহকর্মী ও অনুরাগীরা। ফেসবুকে পুরনো ছবি শেয়ার করে আবেগী বার্তা দিয়েছেন তারা।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিন আবসার লিখেছেন, ‘তুমি মোমবাতিতে ভরা একটা ঘরে ঝাড়বাতি ছিলে, কারিনা। আল্লাহ হাফেজ, আবার দেখা হবে।’

কারিনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু কনটেন্ট ক্রিয়েটর ডানা শোক প্রকাশ করে লেখেন, ‘এমন একটা দিনও মনে পড়ে না, যেদিন আমাদের কথা হয়নি। সে আমাকে শিখিয়েছিল কীভাবে বাঁচতে হয়, কে তার কতটা আপন, সেই হিসাব না করেই সে পৃথিবীর সবাইকে আগলে রাখত। গত জন্মদিনে বলেছিলাম, কারিনা হইছে আর বার্থডে প্ল্যান করতে হবে না। ও জবাবে বলেছিল, আমি যতদিন বেঁচে আছি, সারাজীবন করব। হয়তো তুই আল্লাহরও খুব প্রিয় ছিলি, আর সেজন্যই তিনি তোকে এত তাড়াতাড়ি নিজের কাছে নিয়ে গেলেন। আমাদের আবার দেখা হবে বন্ধু। আল্লাহ তোকে জান্নাতের সবচেয়ে ভালো জায়গায় রাখুন।

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাফসান দ্য ছোটভাই কারিনার এমন মৃত্যুকে বিশ্বাস করা কঠিন জানিয়ে সবাইকে তার বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া করতে বলেছেন।

সংগীতশিল্পী তাশরিফ খান লিখেছেন, ‘কাছের মানুষদের যত্ন নিয়েন। কার সাথে কার কখন শেষ দেখা হয় কেউ বলতে পারবে না!’

অভিনেত্রী পূজা চেরী লিখেছেন, ‘সেদিনই দেখা হলো তোমার সাথে, মানতেই পারছি না।’

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাবা খান লিখেছেন, ‘একটি প্রতিভাবান, সৃজনশীল আত্মা খুব দ্রুতই চলে গেল, কারিনা তার কাজের মধ্য দিয়ে সবসময় বেঁচে থাকবে।’

কনটেন্ট ক্রিয়েটর আলতাফ উদ্দীন আকরমি লিখেছেন, ‘কারিনা আপুর সাথে একটা প্রজেক্টে কাজ হয়েছিল, প্রজেক্টে কিছু কথা কাটাকাটি হয়। প্রজেক্টের প্রপস ফেরত দেয়ার সময় উনি সাথে আমার জন্য চকলেট পাঠিয়েছিলেন। আমি অনেক অবাক হয়েছিলাম। উনি আসলে নিজের মতো করে লাইফটাকে উপভোগ করে পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। সমালোচনা, কে কী বলছে এগুলোকে গায়ে লাগাননি।

রুম্মান রশীদ খান তার ফেসবুকে কারিনা কায়সারের একটি সাদা কালো ছবি পোস্ট করে লিখেছেন,
কারিনার এই ছবিটি তুলে যখন সাদা-কালো এফেক্ট দিয়ে হোয়াটস আপ করেছিলাম, কারিনা বলেছিলেন ওয়াও! কী জোস! আমাকে তো নায়িকা নায়িকা লাগছে। আমি মারা যাবার পর এই ছবিটা দিয়েন!

স্মৃতিকাতর হয়ে রুম্মান রশীদ খান এরপর কারিনা কায়সারকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘কারিনা যেখানেই থাকেন, ভালো থাকবেন!’

কনটেন্ট ক্রিয়েটর কিটো ভাই লিখেছেন, ‘জীবন এত নিষ্ঠুর হতে পারে না। আমি মানতে পারছি না। কারিনা আপু, এটা হতে পারে না।’

নির্মাতা রেদোয়ান রনি আবেগী বার্তা দিয়ে লিখেছেন, ‘দেখা হলেই আমি কারিনাকে বলতাম আমি তোমার সবচেয়ে বড় ফ্যান! সাথে সাথেই ও আমাকে বলতো, না আমি আপনার সবচেয়ে বড় ফ্যান, এই হচ্ছে আমাদের প্রত্যেক দেখা হওয়া, মিটিং হওয়া আর আড্ডার শুরুর তর্ক কথা। জটিল জীবনকে কীভাবে হাসিখুশি দিয়ে সহজ করে ফেলা যায় সেই তালিম নিতাম আমি ওর কাছ থেকে।’

কেবল কনটেন্ট ক্রিয়েশনেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না কারিনা কায়সার; অভিনয় এবং চিত্রনাট্যেও দেখিয়েছেন নিজের মুন্সিয়ানা। গল্প লেখার সেই গল্পকার আজ জীবনের মাঝপথে থেমে গিয়ে হয়ে গেলেন না ফেরার দেশের এক বিষাদময় গল্প।

লিভার সংক্রান্ত জটিলতায় বেশ কয়েক দিন ধরেই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন কারিনা। অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ মে রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে নেয়া হয় ভারতের চেন্নাইয়ে। সেখানে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সব প্রস্তুতি চললেও শেষ রক্ষা আর হয়নি। শুক্রবার (১৫ মে) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার।

Read Previous

রাতে যেসব অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে

Read Next

দেশের ৭ অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ের শঙ্কা

Most Popular