রক্তাক্ত ২৮ জুলাই: নাহিদ ইসলামের বক্তব্য ঘিরে সন্দেহ-সমালোচনার ঝড়

২০২৪ সালের ২৮ জুলাই ডিবি কার্যালয় থেকে সব ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। তবে তার বক্তব্যে সন্দেহ আর সমালোচনার ঝড় ওঠে। জোর করে এ ঘোষণা আদায় করা হয়েছে অভিযোগ তুলে অন্য সমন্বয়করা সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা দেন।

পাঁচ সমন্বয়কের পর ২৮ জুলাই ভোরে আরেক সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুমকেও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিরাপত্তা দিতেই তাদের গোয়েন্দা হেফাজতে রাখা হয়েছে। রাতে ডিবি হেফাজতে থেকেই ভিডিও বার্তা দেন সমন্বয়করা। ভিডিওতে নাহিদ ইসলামকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে দেখা যায়। যেখানে সব ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তিনি।

সেদিনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা সময় সংবাদকে জানাচ্ছিলেন আটক থাকা সমন্বয়করা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘হাত আর চোখ বেধে নিয়ে গিয়ে ঝুলিয়ে মারধর করা হয়। আমাকে প্রায় ৪ ঘণ্টা ঝুলিয়ে রেখেছিল। কখনও কখনও নিচে নামিয়ে মারধর করে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘ডিবি অফিস থেকে চাপ দিয়ে ভিডিও বার্তা বের করেছিল। যদিও আমরা জানতাম না যে, সেই ভিডিও বার্তাটা মিডিয়ায় দেখানো হবে। তবে তাদের মূল লক্ষ্যটাই ছিল, যেকোনোভাবে আন্দোলনটা স্থগিত করা।’

এদিকে সমন্বয়কদের জিম্মি করে এমন বক্তব্য দেয়ানো হয়েছে বলে সেই সময় প্রচার করেন অন্য সমন্বয়করা। এসময় ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, নতুন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত আগেই ছিল যে, সমন্বয়কদের মধ্য থেকে ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হলেও যেন পরবর্তী লেয়ারগুলো প্রস্তুত থাকে। ওই সময় আন্দোলনটা সারা দেশে এমনভাবে ছড়িয়ে গেছে যে, কেউ এসে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করলেও আমরা জানতাম, এটা বন্ধ হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বলেন, সেই সময় আমাদের আর পেছনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। কারণ এবার যদি হাসিনা কোনোভাবে বেঁচে যেতে পারে, তবে আমাদের মৃত্যু শতভাগ নিশ্চিত। এমনকি আমাদের লাশও পাওয়া যেত না।

২৮ জুলাই সব অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ করে ঢাকার ৮টি স্পটে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সমন্বয়ক আব্দুল কাদের।

এদিন আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় ১৪৭ মৃত্যুর তথ্য দেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ৫ আগস্টে ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ডিবি কার্যালয়ের বাইরে লিখে দেন হারুনের ভাতের হোটেল।

Read Previous

জেন-জি আন্দোলনে চাপে মোদি সরকার

Read Next

দুপুরের মধ্যে ৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular