রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের নতুন কৌশল

রাজধানীর আদাবরে নতুন কৌশল নিয়েছে ছিনতাইকারীরা। দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে ছিনতাই করছে তারা। ছিনতাই করে এক গ্রুপ। পরে টাকার বিনিময়ে মালামাল ফিরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয় অন্য গ্রুপ। এজন্য মোবাইল নম্বরও দিয়ে আসে তারা। সম্প্রতি মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ে জড়িত ‘ইউসুফ গ্রুপের’ প্রধানসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (৩ মে) দুপুরে আদাবরের মনসুরাবাদ এলাকায় খাবার খেতে বাসায় যাচ্ছিলেন এক ফুচকা বিক্রেতা। পথে অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে নিয়ে যায় তিন ছিনতাইকারী। মাথায় আঘাত করে সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। দুপুর ১টা ৪৭ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজে অটোরিকশায় করে ওই তিন ছিনতাইকারীকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।

ছিনতাইয়ের কিছুক্ষণ পর ওই ফুচকা বিক্রেতার কাছে টাকার বিনিময়ে ফোন ফিরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয় দুজন।

ভুক্তভোগী ফুচকা বিক্রেতা বলেন, ‘একজন মাথায় আঘাত করে, অন্যজন মোবাইল নিয়ে চলে যায়। মা কিস্তির টাকা তুলে মোবাইলটি কিনে দিয়েছিল। ঘটনার পর আমাকে একটি মোবাইল নাম্বার দিয়ে বলে ৩টার দিকে ফোন দিও। তোমাকে ফোন ফেরত দেব। আসলে বোঝায়, ওরা টাকার বিনিময়ে মোবাইল ফেরত দেবে।’

২৭ এপ্রিল ভোরে একই এলাকার এক হোটেল কর্মচারী ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। তার ফোনও ছিনিয়ে নেয়ার পর টাকার বিনিময়ে ফেরত দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়।

সময় সংবাদের প্রতিবেদককে দেখে ছুটে আসেন ছিনতাইয়ের শিকার আরও কয়েকজন। তারা জানান, এলাকার সব গলিতেই ওত পেতে থাকে ছিনতাইকারীরা। প্রতিদিনই শিকার হচ্ছেন কেউ না কেউ। প্রমাণ ঢাকতে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিক্যামেরাও নষ্ট করে ফেলে অপরাধীরা।কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, সিসিক্যামেরা চলে না। সবাই আতঙ্কিত। এই জায়গা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। দিনের বেলাতেও মানুষ চলাচল করতে ভয় পাচ্ছে।

তারা জানান, মনসুরাবাদের পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরটি যেন অপরাধীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। একদিকে নেশা অন্যদিকে এখানে চলে অপরাধ। দিন কিংবা রাত পথচারী দেখতে পেলেই অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সব ছিনিয়ে নেয়। একের পর এক ছিনতাইয়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এর সমাধান চান।

একের পর এক ছিনতাইয়ে ঘটনায় পুলিশ তৎপর হয়েছে। ফুচকা বিক্রেতার ফোন ছিনতাইয়ে জড়িত পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ইউসুফের নেতৃত্বেই ছিনতাই ও টাকার বিনিময়ে ফোন ফিরিয়ে দেয়ার কাজ করে দলটি।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বলেন, আমি আমার টিম নিয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তার মোবাইলটি ‍উদ্ধার করেছি। চারজন ছিনতাইকারীকে আটক করেছি। মামলা হলে আমরা আরও গভীরে তদন্ত করবো।

তিনি বলেন, এর পিছনে আরও কেউ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখবো। এই এলাকায় অন্য ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলোও তদন্ত করা হবে। ছিনতাই চক্রের বাকি সদস্যসহ সক্রিয় অন্য গ্রুপের অপরাধীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Read Previous

রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন দেব?

Read Next

ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত, ব্যয় কত?

Most Popular