নিম্নমানের বই ছাপানো ও সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) ১৭ বছরে ২ হাজার ৭১১ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। এসব অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষা গবেষকরা।
এনসিটিবি শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, পরিমার্জন ও বই ছাপানোর কাজ করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত গত ১৭ বছরের নানা অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। এর মধ্যে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনামল ছিল সাড়ে ১৫ বছর।
প্রতিবেদনে উঠে আসে নিম্নমানের বই ছাপিয়ে ১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার অনিয়ম করা হয়েছে। চাহিদার চেয়ে বেশি বই ছাপিয়ে ৫১৬ কোটি ৩৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজে ২১৬ কোটি ৪৯ লাখ ২৯ হাজার টাকার অনিয়ম করা হয়েছে।
এছাড়া বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উৎসাহ ভাতার নামে ১ কোটি ৬ লাখ টাকা লোপাট করেছে। রয়ালিটি বিল থেকে ভ্যাট না কাটায় ১২ কোটি ২৫ লাখ টাকার অনিয়ম হয়েছে। এরকম নানা খাতে দুই হাজার ৭১১ কোটি ২০ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে দফতরটিতে।
এনসিটিবি বলছে, এসব অনিয়ম বন্ধ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফখরুল মাওলা বলেন, পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্টটা হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে কথা বলতে পারব। আমার সুযোগ থাকলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ ছাড়া, অপ্রয়োজনীয় খাতের খরচ কমানোর চেষ্টা করছি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত সময়ে সব খাতের মতো শিক্ষাখাতেও ব্যপক লুটপাট হয়েছে। আগামী দিনে যেন এমনটা না হয়, সেজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত নজরদারির আওতায় রাখতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ধরনের নজরদারি থাকতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তো সব সময় সব কাজ করবে না। তবে এনসিটিবিতে কিছু সৎ জনবল দিয়ে মনিটরিং করা হলে দুর্নীতিটা হয়ত কিছুটা কমবে।
স্বৈরশাসনের সময় নতুন যে শিক্ষাক্রম করা হয়েছিল, সেখানেও শিক্ষক প্রশিক্ষণের নামে এক হাজার কোটি টাকার অপচয় করা হয়।
