ওয়ানডেতে ৩৫০ রানের অভ্যাস গড়তে করতে নতুন উদ্যোগ বিসিবির, কী আছে পরিকল্পনায়

ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাটিংটা দারুণ ভোগাচ্ছে বাংলাদেশকে। আর সব দল যেখানে ৪০০ রানের হিসাব কষছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনও ৩৫০ রানই করতে পারেনি। আর শুধু কি ৩৫০? শেষ এক বছরে তো ২০০ রানের বেশি রান তাড়া করতেই ব্যর্থ হয়েছে বারবার।

ব্যাটারদের এই ব্যর্থতা ভাবাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে। নিয়মিত বড় রান করা, সেটা আবার তাড়া করাকে অভ্যাসে পরিণত করতে চাইছে বিসিবি। এই লক্ষ্য পূরণে নতুন অনুশীলন পদ্ধতি চালুর কথা ভাবছে বোর্ড।

গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভা নিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, ব্যর্থতার জন্য শুধু খেলোয়াড়দের দায়ী করতে চায় না বোর্ড। বরং নিজেদের ভুলগুলোও খুঁজে দেখতে চায় তারা।

তামিম একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘যে কোনো ব্যর্থতার জন্য শুধু খেলোয়াড়দের দিকে আঙুল তোলার আগে আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলে বুঝতে চেয়েছি, আমাদের কোনো ভুলের জন্য তারা খারাপ খেলছে কি না, তাদের ওয়ানডের জন্য প্রস্তুত করায় প্রক্রিয়াগত কোনো ভুল আছে কি না।’

বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে বড় সংগ্রহ গড়ার সমস্যা নতুন নয়। একইভাবে বড় লক্ষ্য তাড়া করেও নিয়মিত জিততে পারছে না দল। এর পেছনে ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রস্তুতির ঘাটতি থাকতে পারে বলে মনে করছে বিসিবি।

তামিম ইকবাল বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘ধরুন, আমরা চাই আমাদের জাতীয় দল ওয়ানডেতে ৩০০-৩৫০ করুক, ৩০০-৩৫০ রান তাড়া করুক। কিন্তু ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে কি তারা সেটা করছে? খুব বেশি হলে প্রতি মৌসুমে এ রকম দুই-তিনটা ম্যাচই হয়, যেখানে এত রান তাড়া করতে হয়। এখন ঘরোয়া ক্রিকেটেই যদি তাদের এই চর্চাটা না থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গিয়ে কীভাবে করবে!’

তার বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করতে হলে ঘরোয়া পর্যায় থেকেই বড় রান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শুধু জাতীয় দলের অনুশীলনে এই ঘাটতি পূরণ করা কঠিন। তাই ক্রিকেটের সব পর্যায়ে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে বোর্ড।

বড় রান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে একটি বিশেষ অনুশীলন পদ্ধতির প্রস্তাব দিয়েছেন তামিম। এই পদ্ধতিতে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে। ব্যাটসম্যানদের সামনে থাকবে বড় লক্ষ্য। অন্যদিকে, বোলারদের কাজ হবে সেই লক্ষ্য পূরণে বাধা দেওয়া।

পরিকল্পনাটি নিয়ে তামিম বলেন, ‘আমরা যেমন আলোচনা করেছি, এমন একটা প্র্যাকটিস সেশনের ব্যবস্থা রাখার, যেখানে ৬-৭ জন করে বোলার ও ৬-৭ জন করে ব্যাটসম্যান থাকবে। ব্যাটসম্যানদের ৩২০-৩৫০ রানের লক্ষ্য দেওয়া হবে। তারা চেষ্টা করবে ৫০ ওভারের মধ্যে তা করার, বোলাররা চেষ্টা করবে তাদের সেটা করতে না দেওয়ার।’

এই অনুশীলনে ব্যাটসম্যানরা বড় লক্ষ্য তাড়া করার অভিজ্ঞতা পাবেন। বোলাররাও শিখবেন কীভাবে বেশি রান আটকে রাখা যায়। এতে ম্যাচের চাপ সামলানোর অভ্যাস তৈরি হবে। পাশাপাশি দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার দক্ষতাও বাড়তে পারে।

এই পদ্ধতি শুধু জাতীয় দলের জন্য সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না বিসিবি। ভবিষ্যতে বিভিন্ন পর্যায়ের দলের অনুশীলনেও এমন সেশন দেখা যেতে পারে। খেলোয়াড়দের ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত করানোই হবে এর মূল উদ্দেশ্য।

তবে এটিই বোর্ডের একমাত্র পরিকল্পনা নয়। ওয়ানডে ক্রিকেটে সাফল্য পেতে আরও কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে বিসিবি।

Read Previous

সাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত

Read Next

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আলালের সাক্ষাৎ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular