বিশ্ব বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটের মুখে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল।
সিঙ্গাপুরে সিএনবিসির ‘কনভার্জ লাইভ’ অনুষ্ঠানে স্টিভ সেডজউইককে ভার্চুয়ালি তিনি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত আমরা প্রতিদিন ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ হারিয়েছি। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর সরবরাহেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।’
এর আগে বিরোল সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালির চলমান বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘আমাদের দেখা সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট’ সৃষ্টি করবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারগুলোকে বিকল্প জ্বালানি উৎসের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহণ করা হতো। বর্তমানে এটি দুই পক্ষের অবরোধের মধ্যে রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হতে দিচ্ছে না।
এই প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং জ্বালানি রেশনিং পর্যন্ত করতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইইএ।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইউরোপে শিগগিরই জেট জ্বালানির সংকট দেখা দিতে পারে এবং কিছু দেশে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
বিরোল বলেন, ‘ইউরোপ তার প্রায় ৭৫ শতাংশ জেট জ্বালানি মধ্যপ্রাচ্যের রিফাইনারি থেকে পায়, যা এখন কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে। ইউরোপ এখন যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকে তা সংগ্রহের চেষ্টা করছে। যদি আমরা সেখান থেকে অতিরিক্ত আমদানি নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে ইউরোপ বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি প্রণালিটি দ্রুত খুলে দেয়া হবে এবং রিফাইনারি থেকে রফতানি আবার শুরু হবে।
