সিরাজগঞ্জে ১১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

সিরাজগঞ্জে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার পাসের হার কমে ৩৭ দশমিক ৮৮ শতাংশে নেমেছে। গত বছরের তুলনায় এ হার কমেছে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এবার জেলার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এবার পাস করতে পারেননি।

জেলা শিক্ষা অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলার ৯টি উপজেলায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২০১টি প্রতিষ্ঠানের ২২ হাজার ৬৬৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১১ হাজার ২৭৩ জন ছাত্র এবং ১১ হাজার ৩৯১ জন ছাত্রী। পাস করেছেন ৮ হাজার ৫৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১৪ হাজার ৭৯ জন।

এবার ছাত্রদের পাসের হার ২৯ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৪৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩০১ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৯৯ জন এবং ছাত্রী ২০২ জন। পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে মেয়েরা।

জেলার ২০১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯০টির শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন। তবে বাকি ১১টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

পাস না করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা মহিলা কলেজ, এসবি রেলওয়ে কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শ্যামপুর আলিম মাদ্রাসা ও ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম বিএম কলেজ; রায়গঞ্জ উপজেলার আমশড়া ফাজিল মাদ্রাসা ও তেলিজানা আলিম মাদ্রাসা; তাড়াশ উপজেলার জহির উদ্দিন কলেজ, রানীরহাট কলেজ ও দোবিলা সিনিয়র মাদ্রাসা; কাজীপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং উল্লাপাড়া উপজেলার চন্দ্রগাঁতী আলিম মাদ্রাসা।

ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা, প্রস্তুতির জন্য কম সময় পাওয়া, প্রশ্নের ধরনে পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা উল্লেখ করছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা। অন্যদিকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে আসক্তি, শ্রেণিকক্ষবিমুখতা ও কোচিংনির্ভরতাকেও দায়ী করছেন।

জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী মোন্নাফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। শুরুতেই প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা সেভাবে প্রস্তুতি নিতে পারত। হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে অনেকের প্রশ্ন বুঝতে ও উত্তর দিতে সমস্যা হয়েছে।

শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান মাহী জাগো নিউজকে বলেন, অনেক বছর পর পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা হয়েছে। অথচ প্রস্তুতির জন্য সময় ছিল তুলনামূলক খুবই কম। আগের বছরের তুলনায় এবারের প্রশ্ন কিছুটা কঠিন ছিল। অন্য বছর প্রায় দুই মাস ধরে পরীক্ষা হলেও এবার পরীক্ষা হয়েছে প্রায় এক মাসে।

ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে আসক্তি ও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শ্রেণিকক্ষের চেয়ে কোচিং সেন্টারের ওপর বেশি নির্ভরশীল। শ্রেণিকক্ষ ও কোচিংয়ের পাঠদানের ধরন এক নয়। প্রশ্নের ধরনে পরিবর্তন এলে কোচিংনির্ভর শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ে।

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ডেকে ফলাফল পর্যালোচনা করা হবে। এরপরও উন্নতি না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Read Previous

১০০ টাকার প্রাইজবন্ডের ১২৫তম ড্র, পুরস্কার পেল যেসব নম্বর

Read Next

ছয় বছরে যেভাবে ১৩ থেকে ৪১ কোটি টাকা সম্পত্তির মালিক সারা

Most Popular